আজ ভীষণ ভাবে মনে পড়ছে ওই দিনকার কথা, যে দিন তোমাকে প্রথম দেখেছিলাম. তখন আমি বেসুতে. সেকেন্ড ব্রিজ হয়ে রোজ দিন-ই নামতাম রবীন্দ্রসদনে। সেটা ছিল ২০০৬। পুজোর আগে আগে. সেপ্টেম্বর-এর মাঝামাঝি কি শেষ হবে হয়ত.
সেদিন হঠাত-ই দেখলাম তোমাকে.আলাপ করার লোভ সামলাতে না পেরে চলে গেছিলাম তোমার কাছে. একটু ভয় করছিল, সেটা ঠিক. কারণ তুমি তখন খ্যাতির মধ্য গগনে! পাত্তা কি দেবে! এটাই চিন্তা করছিলাম।
কিন্তু সামনে গিয়ে কথা বলতেই দেখলাম তুমি অন্যরকম. 'সেলেব '-সুলভ কোনো ভাব নেই তোমার মধ্যে. খুব সহজ ভাবেই আমাকে জিগ্গেস করেছিলে 'কী করিস তুই? নাম কী তোর? আমার বানানো কোনো ছবি দেখেছিস?' সাল অনুযায়ী যখন তোমার সব ক'টা ছবির নাম বলেছিলাম; তুমি তো অবাক! বলেছিলে,'আমি তো ছবি বানাই বড়দের জন্য, তোরাও দেখিস নাকি?'
১বছর হলো তুমি না থেকেও আমাদের মধ্যে আছো. তখন স্কুলে গরমের ছুটি চলছে. ঘুম থেকে একটু দেরী করেই উঠেছিলাম. উঠেই, Twitter App-টা open করলাম mobile-এ. Onir-এর Tweet থেকে জানতে পারলাম খবরটা. এরকম একটা জঘন্য মজা করার কারনটা জানতে চাওয়ার আগে টিভিটা চালালাম. এই বাস্তব সত্যতা মেনে নিতে আমার প্রায় ঘন্টা দুয়েক সময় লেগেছিল.
আমি অনেক প্রিয় মানুষকে হারিয়েছি. মৃত্যুটা আমার কাছে একটা চরম বাস্তব. তাই অত্মীয়বিয়োগে আমার চোখে জল আসেনা বললেই চলে. কিন্তু তোমার মৃত্যু সংবাদটা নাড়িয়ে দিয়েছিল আমাকে. মনে হয়েছিল কিছু একটা খালি হয়েগেল! কেন এরকম মনে হচ্ছিল,জানিনা! হয়ত একজন নারী অন্য একজন নারীকে যতটা বোঝে,তার থেকে তুমি অনেকটা ভালো বুঝতে নারীদের, তাই. হয়ত বা
তোমার ছবি দেখে বড় হয়েছি, নারী হবার ছোট্ট ছোট্ট অনুভূতিগুলো তোমার থেকে শিখেছি বলে! হয়ত বা সিনেমা-কে ভালোবেসেছি তোমার ছবি দেখে, তাই. হয়ত বা তোমার মাধ্যমে বুঝেছি রবীন্দ্রনাথ-কে, তাই. বা হয়ত তোমার চিন্তাধারার মধ্য দিয়ে মহাভারত সম্পর্কে ভালবাসা জেগেছিল, তাই. তোমার মত মানুষ কতজন হয়, জানিনা! 'বৃহন্নলা' শ্রেণীভুক্ত হওয়ায় নিজের নাম 'সৌরনীল' থেকে পাল্টে নিজেই রেখেছিলে 'ঋতুপর্ণ'! এত সাহস ক'জনেরই বা থাকে! হয়ত সাহস না এটা; এটা ছিল তোমার আত্মবিশ্বাস!!
টালিগঞ্জে তুমি পথ চলতে শুরু করেছিলে ১৯৯২ সালে। তখন আমি ক্লাস টু-তে. ২০১৩ সালে মাত্র ২১ বছরের মাথায় তা শেষ করলে! হয়ত অনেকটা ইচ্ছাকৃত ভাবেই। এই ২১বছরে তোমার বানানো ২২টা ছবি হয়ত কথাও মনে হয় খুবই কম; কিন্তু আমার মত 'ঋতুপর্ণ-প্রেমী'র কাছে এই ২২টা ছবি 'Precious Wealth of not only Bengali Cinema, but for the Indian Cinema!'
যেখানেই থাকো না কেন, ভালো থেকো !!
সেদিন হঠাত-ই দেখলাম তোমাকে.আলাপ করার লোভ সামলাতে না পেরে চলে গেছিলাম তোমার কাছে. একটু ভয় করছিল, সেটা ঠিক. কারণ তুমি তখন খ্যাতির মধ্য গগনে! পাত্তা কি দেবে! এটাই চিন্তা করছিলাম।
কিন্তু সামনে গিয়ে কথা বলতেই দেখলাম তুমি অন্যরকম. 'সেলেব '-সুলভ কোনো ভাব নেই তোমার মধ্যে. খুব সহজ ভাবেই আমাকে জিগ্গেস করেছিলে 'কী করিস তুই? নাম কী তোর? আমার বানানো কোনো ছবি দেখেছিস?' সাল অনুযায়ী যখন তোমার সব ক'টা ছবির নাম বলেছিলাম; তুমি তো অবাক! বলেছিলে,'আমি তো ছবি বানাই বড়দের জন্য, তোরাও দেখিস নাকি?'
১বছর হলো তুমি না থেকেও আমাদের মধ্যে আছো. তখন স্কুলে গরমের ছুটি চলছে. ঘুম থেকে একটু দেরী করেই উঠেছিলাম. উঠেই, Twitter App-টা open করলাম mobile-এ. Onir-এর Tweet থেকে জানতে পারলাম খবরটা. এরকম একটা জঘন্য মজা করার কারনটা জানতে চাওয়ার আগে টিভিটা চালালাম. এই বাস্তব সত্যতা মেনে নিতে আমার প্রায় ঘন্টা দুয়েক সময় লেগেছিল.
আমি অনেক প্রিয় মানুষকে হারিয়েছি. মৃত্যুটা আমার কাছে একটা চরম বাস্তব. তাই অত্মীয়বিয়োগে আমার চোখে জল আসেনা বললেই চলে. কিন্তু তোমার মৃত্যু সংবাদটা নাড়িয়ে দিয়েছিল আমাকে. মনে হয়েছিল কিছু একটা খালি হয়েগেল! কেন এরকম মনে হচ্ছিল,জানিনা! হয়ত একজন নারী অন্য একজন নারীকে যতটা বোঝে,তার থেকে তুমি অনেকটা ভালো বুঝতে নারীদের, তাই. হয়ত বা
তোমার ছবি দেখে বড় হয়েছি, নারী হবার ছোট্ট ছোট্ট অনুভূতিগুলো তোমার থেকে শিখেছি বলে! হয়ত বা সিনেমা-কে ভালোবেসেছি তোমার ছবি দেখে, তাই. হয়ত বা তোমার মাধ্যমে বুঝেছি রবীন্দ্রনাথ-কে, তাই. বা হয়ত তোমার চিন্তাধারার মধ্য দিয়ে মহাভারত সম্পর্কে ভালবাসা জেগেছিল, তাই. তোমার মত মানুষ কতজন হয়, জানিনা! 'বৃহন্নলা' শ্রেণীভুক্ত হওয়ায় নিজের নাম 'সৌরনীল' থেকে পাল্টে নিজেই রেখেছিলে 'ঋতুপর্ণ'! এত সাহস ক'জনেরই বা থাকে! হয়ত সাহস না এটা; এটা ছিল তোমার আত্মবিশ্বাস!!
টালিগঞ্জে তুমি পথ চলতে শুরু করেছিলে ১৯৯২ সালে। তখন আমি ক্লাস টু-তে. ২০১৩ সালে মাত্র ২১ বছরের মাথায় তা শেষ করলে! হয়ত অনেকটা ইচ্ছাকৃত ভাবেই। এই ২১বছরে তোমার বানানো ২২টা ছবি হয়ত কথাও মনে হয় খুবই কম; কিন্তু আমার মত 'ঋতুপর্ণ-প্রেমী'র কাছে এই ২২টা ছবি 'Precious Wealth of not only Bengali Cinema, but for the Indian Cinema!'
যেখানেই থাকো না কেন, ভালো থেকো !!


2 comments:
how lucky you are that you met rituda in person. tomar lekha ta pore khub bhalo laglo. aj ritudar jonno mon bharakranto. jokhon tini nijer swarupe aste suru korchilen tokhon e take chole jete holo. life is unfair. unfair indeed. miss him badly.... :(
তোমার লেখাটা পড়ার পর বেস কিছু সময় নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলাম......তাঁর চলে যাওয়াটা এখন ঠিক মেনে নিতে পারেনা মোন......!!!
ত্রিভুজের এক প্রান্তে তাঁকে বসালে অন্য প্রান্তে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ও শেষ প্রান্তে মহাভারতকে লুকিয়ে থাকতে দেখা যাবে,আমার মোনে হয় ঋতুদা তার ছবি গুলো দিয়ে বোঝাতে চেয়েছেন..."আমরা কিভাবে বেঁচে আছি সেটা ইম্পরট্যান্ট না; আমরা কিভাবে বাঁচতে চাই সেটা অনেক বেশী ইম্পরট্যান্ট"
তাঁর মৃত্যু হয় না। তিনি ঋতুপর্ণ ঘোষ। ঘুমের মধ্যে আজ ভোরের বর্ষায় যিনি চলে যান, তিনি ফিরবেন নতুন সময় নিয়ে।
কিছু মানুষের প্রস্থানে ক্ষতির পাল্লাটা বড্ড বেশিই হয়ে যায়। ঋতুপর্নের প্রস্থানটা তেমনই! জানি না আবার কবে এমন একজন ঋতুপর্ণকে পাবে এই ধরা।
Post a Comment