Popular Posts

04 March, 2014

মজার অভিজ্ঞতা

গতকাল টিফিন টাইমে নার্সারির ক্লাস-রুমের বাইরে দিয়ে যাচ্ছি। হঠাত-ই একটি বাচ্চা, নাম দেব ( সিনেমার 'দেব' নয় ), আমার কাছে এসে বললো, "আন্টি, সুজন আমার ঘাড় টিপে দিয়েছে।" সুজন-কে ডেকে আনতে পাঠালাম। সে এলো, কিন্তু তার দোষ কিছুতেই স্বীকার করে না. এটুকু ব্যাপারে নার্সারী-র টিচার-কেও ডাকতে পারছি না. সুজন-কে নানা ভাবে জিজ্ঞেস করে চলেছি। কিছুতেই তো আর কিছু বলে না. শুধু বলে "আন্টি, আমি কিছু করিনি।"

পড়লাম এক সমস্যায়। দেব বলে চলেছে, অর ঘাড় টিপে দিয়েছে। আর সুজন বলে কিনা, সে করেনি।
একটা ফাঁকা ঘর দেখে দুজন-কে নিয়ে বসলাম। বকবো না, লজেন্স দেবো; বলেই চলেছি। কোনো লাভ-ই হচ্ছে না. সুজন-কে বলছি, ধাক্কা দিয়েছ? চিমটি কেটেছ? মেরেছ? সবেতেই বলে, "না". আচ্ছা মুশকিল হলো যে! এইসময় দেব-এর ঘাড়ে ঠিক কত-টা লেগেছে, দেখতে গিয়ে দেখি, ওর জামার কলার-তা একটু ভিজে। ইতিমধ্যে দেখেছি যে, সুজন-এর হাত-দুটো একটু ভিজে ভিজে! ব্যাপার-টা পরিষ্কার হলো যে, কিছু তো একটা হয়েছে। কিন্তু হয়েছে-টা কী?!

প্রায় ১২/১৩মিনিট এই করতে করতে কেটে গেছে। আর অপেক্ষা করতে পারলাম না. সুজন-কে জিজ্ঞাসা করলাম, " তুমি দেব-এর কলার ধরেছিলে কেন?"  
সুজন স্মার্টলি উত্তর দিলো , "দেখনা আন্টি, কখন থেকে দেব-কে ডাকছি, শুনতেই পাচ্ছিল না. তাইতো, পেছন থেকে ওর  জামার কলার ধরে ডাকলাম। কলারের ভেতরে যে ওর ঘাড়-টাও  আছে, বুঝতেই পারিনি!"
আমার  কাজ শেষ! কি যে বলবো; আদৌ কিছু বলবো কিনা বুঝতে না পেরে; ওদের দুজনের ভাব করিয়ে দিয়ে, নিজের ক্লাসের দিকে পা বাড়ালাম। :)

02 March, 2014

ফিরে দেখা

আজ  আমি যা (যেটুকু), তার  পেছনে আমার "মা" ছাড়া,  আর যাদের অবদান অনস্বীকার্য্য; তাদের-কে আজ ফিরে দেখবো :)


মুকুল বিথী
একদম ছোটবেলা-তে পড়েছি "মুকুল বিথী"-তে. সবার কাছে খুব পরিচিত না হলেও,  উত্তর কলকাতা-বাসীর কাছে  পরিচিত নাম. মোটামুটি বড় স্কুল। ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা বেশ ভালো। এখানে পড়েছি আড়াই বছর.  এখানকার নিয়ম যে, দিদি-দের সবাই "মাসিমা" বলে ডাকে।

 ব্রাহ্ম গার্লস মন্তেসরী

এরপরে, ভর্তি হলাম ব্রাহ্ম গার্লস মন্তেসরী-তে. এটাও ছিল বেশ নামী ও দামী স্কুল! এখানে পড়লাম ৪বছর.  ক্লাস 2 পর্যন্ত। 


বেথুন কলেজিয়েট স্কুল




 এর পরে ভর্তি হলাম "বেথুন কলেজিয়েট স্কুল"-এ.  যার সম্পর্কে ১টি কথা বলার-ও প্রয়োজন পরেনা। যার তুলনা, সে নিজেই। এখানে পরলাম ক্লাস 3 থেকে ক্লাস 12 অবধি। মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক ২টোই এখান থেকে। মা-এর পরে আমার কাছে আমার স্কুল-এর স্থান। জীবনে বিদ্যা, শিক্ষা, মূল্যবোধ, আচার-ব্যবহার সবকিছু; সবকিছুই শিখেছি এখান থেকে। " দিদি"-দের কাছ থেকে মাতৃসম ভালবাসা পেয়েছি এখানেই। আমার স্কুল-এর কাছে আমি কৃতজ্ঞা। আমার এতটাই ঋণ, যে তা বলে শেষ করা যাবেনা কোনদিন. বলা যেতে পারে, আমার মধ্যে নারীবাদের বীজ বপনের সূত্রপাত এখান থেকেই শুরু হয়েছিল!




Techno India

এরপরে  এলো, কলেজ আর ইউনিভার্সিটি-র পালা। B.C.A. পড়তে ভর্তি হলাম "Techno India"-তে. নাম-দাম-প্রাচুর্য্যে এলাহি ব্যাপার! প্রথম দিন দেখে তো আমার চক্ষুস্থির! 

কলেজ, তার Status, তার Faculties, তার Students, সব কিছুই যেন হাই-ফাই এখানে! প্রথম প্রথম তো একটু ভয়, ভয় লাগত। সবসময়-ই মনে হত, "মানিয়ে নিতে পারব তো?" কিন্তু কিছুদিন পরে দেখলাম, মানিয়ে নেওয়ার মত কিছুই নেই. আমিও তো এদের মতই! আমাদের ক্লাস-এ আমরা ৮টা মেয়ে আর ৫২টা ছেলে ছিলাম. আমার  আবার বরাবর-ই মেয়ে-দের থেকে ছেলে  বন্ধু বেশি ভালো  লাগলো। তাই, মানাতে একটুও অসুবিধা হয়নি। বরং বেশ   ভালোই  কাটছিল দিন-গুলো. 



বেসু

Master in Business Administration & Master in Computer Application - ২টোই এখান থেকে করলাম। কলেজ তো নয়, যেন একটা ছোট-খাটো শহর. কি ছিলনা এর মধ্যে! ২৭টা buildings, ২টো মাঠ (Oval & Lords), ৫টা বোর্ডিং, ব্যাংক, ATM, ক্লিনিক, পুলিশ ফাঁড়ি, কী ছিলনা সেটার মধ্যে! এসবের সাথে উপরি পাওনা ছিল গঙ্গা দর্শন আর গঙ্গার হওয়া খাওয়া! আমাদের এম.বি.এ-র ক্লাস ৮তলা-তে. তাই, একটু বেশি হওয়া দিলেই গঙ্গার জলের ঝাঁট এসে ভিজিয়ে যেত আমাদের-কে!





18 February, 2014

A Little Confession


Ethics'এর জলাঞ্জলি 

'Ethics' -কে ভীষণ ভাবে মূল্য দিয়েছি সারাজীবন। নিজের এথিক্স-কে বজায় রাখার জন্য অনেক কিছু ত্যাগ-ও করেছি। সারাজীবন চেয়ে এসেছি, নিজের কাছে নিজে একদম পরিষ্কার থাকব। আজ-ও হয়ত নিজের কাছে নিজে পরিষ্কার থাকার জন্যই এই Confession!

জীবন-এর সব পরীক্ষা-তেই নিজের ওপরে ভরসা রেখেছিলাম। স্কুল-কলেজের হোক; বা অন্য ক্ষেত্রের। যথারীতি সেই ভরসা নিয়েই আজ-কেও গেছিলাম পরীক্ষা দিতে। প্রস্তুতি মারাত্মক ভালো ছিল, তা নয়. কিন্তু খুব খারাপ ছিল, তাও বলি কীকরে? শেষ দুমাস ধরে বেশ মন দিয়েই পড়াশোনা করছিলাম। রাত ভর করে ৪/৫টা অবধি পড়ছিলাম। 

আজ প্রথম অর্দ্ধে ছিল Core Subject'এর 1st Paper. ৭০নম্বরের পরীক্ষায় মোটামুটি ৫৫ পাবো আশা করি. কিন্তু দেখলাম, সবাই (২৯৪ জনের মধ্যে ২৯০ জন  তো হবেই) সাথে করে বই, নোটস, চোতা নিয়ে বসেছে।পরীক্ষা শেষে সবার মুখে খুশির হাসি। সবাই আশা করছে ৬০/৬৫. সেখানে আমি মাত্র ৫৫. কিছুটা যেন দমে গেলাম।

দ্বিতীয়ার্ধে ছিল Core Subject'এর 2nd Paper'এর পরীক্ষা। Preparation আমার খুব ভালো ছিল না. আমি সম্পূর্ণ অন্য Field'এর মানুষ। আমি বুঝি মেশিন-কে. Pedagogy, Child Development, Child Psychology এসব কী জিনিস? খায় নাকি মাথায় মাখে! যাইহোক, দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা দিতে বসার সময় সাথে করে বই-টা নিয়ে বসলাম; বাকি সবার মত. ৭০ নম্বরের মধ্যে ৫২ নম্বর লিখলাম একদম নিজে নিজে। বাকিটা হয়ত একটু চেষ্টা করলে পারতাম। কিন্তু হঠাত-ই মনটা বলে উঠলো,'চেষ্টা করব কেন? সাথে তো বই আছে!' 

ব্যস! যেই না ভাবা, অমনি বই বের করে বাকি ১৮ নম্বর বই দেখে হুবহু টুকে ফেললাম। প্রথম "রক্তের স্বাদ " পেলে, মানুষের যেমন আনন্দ হয়, আমারও ঠিক সেরকম অনুভূতি হচ্ছিল। 

কিন্তু বাস-এ করে বাড়ি ফেরার সময় আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না. চোখের জল আর বাঁধ  মানলো না. নিজের চাকরিটা বজায় রাখতে গিয়ে নিজের Ethics'কে জলাঞ্জলি দিলাম আজ. এটার কি খুব দরকার ছিল? হয়ত বা ছিল না; আবার হয়ত বা ছিল! নিজের কাছে নিজেকে বড্ড ছোট লাগছে আজ. এই স্বীকারোক্তি-টার খুব দরকার ছিল!









30 January, 2014

~Today is my 30th Birthday~



' জন্মদিন ' 

সম্ভবত, এটা আমার প্রথম জন্মদিন যেটা মা-কে ছাড়া হচ্ছে। এই দীর্ঘ ২৯টা জন্মদিনেই মা-কে পাশে পেয়েছি। কিন্তু এই বছর  মা অফিস থেকে ছুটি পায়নি। বলা ভালো, আমিই ছুটি নিতে বারণ করেছিলাম।
আজ ৩০ বছর পূর্ণ করলাম। বয়স-টা নেহাত কম হলনা। কিন্তু তাও, মন-টা  ভালো লাগছেনা।

আমার মানেই অন্য  সকলের মত স্পেশাল মেনু।

সকাল-টা শুরু হয় এইভাবে-
(১) কচুরী-আলুরদম 

দুপুরের মেনু-
(১) ভাত 
(২) মুগ-ডাল 
(৩) পাঁচ রকম ভাজা 
(৪) কাতলা মাছের কালিয়া 
(৫) ইলিশ মাছ ভাপা 
(৬) গলদা চিংড়ির মালাইকারি 
(৭) মাটন কষা 
(৮) চাটনি 
(৯) দই-সন্দেশ 

রাতের মেনু-
কোনো নামী-দামী হোটেল থেকে আমার প্রিয় খাবার!


কিন্তু, এই বছরে এই সমস্ত কিছুই হলো না........

ঠিক  করলাম, সামনের বছরের জন্মদিন থেকে মা-কে ছুটি নিতে বলব... অন্তত যতদিন দু-জনে আছি, ততদিন তো হোক ঠিকঠাক পালন!

এই বছরে মা-এর জন্মদিন পড়েছে "গুড ফ্রাইডে" -র দিনে। সুতরাং, সেলিব্রেট করা যাবে!!~ 

17 January, 2014

A Small Tribute to the DIVA !!

Photo Courtesy : AnandaBazar Patrika


Tumi Na hoy Rohite Kache
kichukhon aaro na hoy rohite kaache
aaro kichu kotha na hoy bolite more 
ei modhukhon modhumoy hoye 
na hoy uthito bhore
aaro kichu kotha na hoy bolite more 
kichukhon aaro na hoy rohite kaache ||

shure shurobhite na hoy bhorito bela
mor elo chul loye batash korito khelaa |
baakul kotona bokuler kuri 
roye roye jeto jhore
ogo na hoy rohite kaache
kichukhon aaro na hoy rohite kaache ||

kichu niye diye ogo mor monomoy
shundoro toro hoto naki bolo 
ektu chowaar porichoy

bhabero leelae na hoy bhorito aakhi
amar e na hoy aaro kache nite daaki |
nahoy shonaate moromer kotha 
mor duti haat dhore
ogo na hoy rohite kaache
kichukhon aaro na hoy rohite kaache || 
                         
                                             

01 January, 2014